মালদা

মোটা টাকার বিনিময়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের টিকিট বিক্রি করার অভিযোগ উঠল লেবু বাবুর বিরুদ্ধে

মোটা টাকার বিনিময়ে নির্বাচনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। শুক্রবার এই অভিযোগ তৃণমূলের কালিয়াচক ব্লক সভাপতি আবু নাসের খান চৌধুরীর বাড়ীর সামনে বিক্ষোভ ও ধর্নায় বসল বিক্ষুব্ধ তৃনমূল কর্মীরা। 

        জানা যায়, কালিয়াচক থানার জালুয়াবাথাল গ্রামপঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি মহন্মদ জিয়াউল চৌধুরী সহ বেশ কয়েকজনকে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে টিকিট দেবে বলে জানায়। কিন্তু অঞ্চল সভাপতি সহ তৃণমূলের বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, যারা নতুন করে সিপিএম ও কংগ্রেস ছেড়ে দলে যোগদান করেছে, তাদের কেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য সিম্বল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা বার বার ব্লক সভাপতি আবু নাসের খানের সঙ্গে দেখা করলেও তার সুরাহা হয়নি। শুক্রবার দুপুরে অঞ্চল সভাপতি জিয়াউল চৌধুরী সহ বেশ কয়েকজন কর্মী সর্মথক ব্লক সভাপতি আবু নাসের খানের বাড়িতে দেখা করার জন্য হাজির হন। কিন্তু ব্লক সভাপতি তাদের সঙ্গে দেখা করেননি। ফলে এদিন তারা টিকিটের দাবিতে বাধ্য হয়ে নাসের খানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। 

        এবিষয়ে অঞ্চল সভাপতি মহন্মদ জিয়াউল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, মোটা টাকার বিনিময়ে টিকিট বিক্রি করছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। অন্যান্য অঞ্চল সভাপতিরা টাকা দিয়ে দেওয়ায় তাদের প্রার্থীদের সিম্বল দিয়েছে কিন্তু তিনি টাকা দিতে পারেননি তাই তার প্রার্থীদের সিম্বল দিচ্ছেনা ব্লক সভাপতি বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে তিনি হুমকি দেন, যদি তার প্রার্থীদের সিম্বল না দেওয়া হয় তবে তিনি আত্মহত্যা করবেন। এর দায়ী হবেন ব্লক সভাপতি আবু নাসের খান চৌধুরী।

        এই ঘটনায় তৃণমূলের এক প্রার্থী নৈমুদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, আমাকে গোটা গ্রাম সমর্থন করেছে। এমনকি জেলার তৃণমূলের একাধিক নেতৃত্ব আমাকে টিকিট দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এখন দিচ্ছেনা। এরই প্রতিবাদ জানাতে তারা এদিন ব্লক সভাপতি আবু নাসের খানের বাড়িতে আসেন। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করেননি। যার কারনে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের একটাই দাবী যতক্ষণ না তাদের দলীয় সিম্বল দিয়ে প্রার্থী করা হচ্ছে ততক্ষণ তারা এই বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

 
               জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এখন দলের লোক বল বেড়েছে, যার কারনে একটি আসনে দুই থেকে তিনজন দাঁড়িয়েছে। যারা টিকিট পাবে না তারা স্বাভাবিক ভাবেই বিক্ষোভ দেখাবে। কিন্তু তাদের একটায় কথা বলবো, দলকে ভালো বেসে, বিশ্বাস রেখে কাজ করতে হবে। সবার মন রাখা সম্ভব নয়। তবের তাদেরকে বিষয়টি বোঝাবেন বলে আশ্বাস দেন।